রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যপরিধি পুনর্গঠন করে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। এ সংক্রান্ত ‘রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা বিধিমালা-২০২৫’ এর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জারি করা গেজেটে বলা হয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১-এর আওতায় বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার একটি সুস্পষ্ট ও আধুনিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে আরও সংগঠিত ও আইনগত কাঠামোর মধ্যে আনা হলো।
নতুন বিধিমালায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নিরাপত্তা যাচাই (সিকিউরিটি ভেটিং), প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের ক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সরকার ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এসএসএফের নিরাপত্তার আওতায় থাকবেন। প্রয়োজনে বিদেশি ভিআইপি, কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার দায়িত্বও পালন করতে পারবে বাহিনীটি।
বিধিমালায় ভিআইপি অবস্থানরত এলাকা ও অনুষ্ঠানস্থলকে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা জোনে ভাগ করার বিধান রাখা হয়েছে। এসব জোনে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র, অনুমোদনপত্র ও নিরাপত্তা যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা যানবাহন তল্লাশি, প্রবেশে বাধা প্রদান কিংবা এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে এসএসএফকে।
নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনায় পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বড় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, সফর বা জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিত কমান্ড কাঠামোর আওতায় দায়িত্ব পালন করবে বাহিনীটি।
গেজেটে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কার্যালয় ও বাসভবনের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব এসএসএফের মহাপরিচালকের ওপর ন্যস্ত থাকবে। দুর্যোগ বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও তদারকিও করবেন তিনি।
অনুষ্ঠানস্থলে অস্ত্র বহনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বাহিনীর কর্মকর্তা ছাড়া সাদা পোশাকে অন্য কেউ অস্ত্র বহন করতে পারবেন না। তবে সরকার অনুমোদন দিলে বিদেশি ভিআইপির সঙ্গে আগত নিরাপত্তা সদস্যরা নির্ধারিত স্থানে অস্ত্র বহন করতে পারবেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ডিউটি পাস সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের গুরুত্ব ও নিরাপত্তা বিবেচনায় সংবাদকর্মীর সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষমতা থাকবে এসএসএফ মহাপরিচালকের হাতে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি ও প্রযুক্তিনির্ভর হুমকির প্রেক্ষাপটে ভিআইপি নিরাপত্তা কাঠামো হালনাগাদ করা সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে এই ক্ষমতা প্রয়োগে পেশাদারত্ব, মানবাধিকার সংবেদনশীলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
