বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য একটি পৃথক ও শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠান কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়, বরং স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং নীতিনির্ধারণে সরকারকে সহায়তা করবে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা ২০২৬–২০৫০ উপস্থাপনকালে প্রধান উপদেষ্টা এ নির্দেশনা দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। এই খাত শক্তিশালী না হলে অর্থনীতি দাঁড়াবে না। দেশের প্রতিটি মানুষের জীবন এই খাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।” তিনি অতীতের পরিকল্পনাকে ‘খাপছাড়া’ উল্লেখ করে বলেন, শুরু থেকে নতুন করে চিন্তা করতে হবে, যাতে ভুল লোকেশন ও ভুল কাঠামোর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সভায় জানানো হয়, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সময়কালে ফার্স্ট ট্র্যাক প্রায়োরিটি প্রকল্পের আওতায় অফশোর অনুসন্ধান রাউন্ড, গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, এলএনজি সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, রিফাইনারি সক্ষমতা এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুদ সক্ষমতা সম্প্রসারণে কাজ করা হবে।
এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রকল্প হিসেবে অফশোর গ্যাস উন্নয়ন, বৃহৎ পরিসরে রিফাইনিং ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প সম্প্রসারণ, হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়া অবকাঠামো উন্নয়ন, ভূ-তাপীয় (জিওথার্মাল) শক্তি এবং জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্র তরঙ্গভিত্তিক শক্তি উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
গবেষণা ইনস্টিটিউশন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে এবং তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণে সরকারকে সহায়তা করবে। বিকল্প জ্বালানি উৎস নিয়েও গবেষণা চালাতে হবে।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

