বাংলাদেশের বাজারে সক্রিয় বহুজাতিক কোম্পানিগুলো চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জুলাই–সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে শক্তিশালী ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি দেখালেও উল্লেখযোগ্য মুনাফা করতে পারেনি। দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৩টি বহুজাতিক কোম্পানির সম্মিলিত আয় এই সময়ে বেড়েছে ৮.১৫ শতাংশ। তবে বিভিন্ন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নিট মুনাফা প্রায় স্থিতিশীলই রয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম তিন মাসে ১৩ কোম্পানির সম্মিলিত আয় হয়েছে ১৯১.৯৬ বিলিয়ন টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৭৭.৪৯ বিলিয়ন টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আয় বেড়েছে ১৪.৪৭ বিলিয়ন টাকা।
এককভাবে সর্বোচ্চ আয় করেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটিবিসি)—৯৪.৬৮ বিলিয়ন টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১১% বেশি। তবে প্রবৃদ্ধিতে সবার ওপরে রয়েছে আরএকে সিরামিকস। তিন মাসে তাদের আয় ৫৪% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.০৬ বিলিয়ন টাকায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার (২৫%) এবং তৃতীয় স্থানে ম্যারিকো বাংলাদেশ (২৩%)।
বাটা শু (১৯%), সিঙ্গার বাংলাদেশ (১৫%) ও রেকিট বেনকিজার (১০%)—এই কোম্পানিগুলোর আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে লিন্ডে বাংলাদেশ, বার্জার পেইন্টস, লাফার্জহোলসিম, গ্রামীণফোন ও রবি আজিয়াটার প্রবৃদ্ধি ছিল ১–৭ শতাংশের মধ্যে।
তিন মাসে এই ১৩ কোম্পানির সম্মিলিত নিট মুনাফা হয়েছে ২১.৫০ বিলিয়ন টাকা, যা গত বছরের তুলনায় মাত্র ০.২৭% কম। বিশ্লেষকদের মতে, কাঁচামালের উচ্চ ব্যয়, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, সুদের হার বৃদ্ধি এবং সরকারের বাড়তি কর আরোপ মুনাফা কমিয়ে দিয়েছে।
১৩ কোম্পানির মধ্যে ১১টি লাভে থাকলেও গ্রামীণফোন এবং বিএটিবিসির মুনাফা বেড়ে ওঠেনি। আর দুই কোম্পানি—সিঙ্গার বাংলাদেশ ও বাটা শু—লোকসান করেছে, যেখানে অতিরিক্ত ব্যয়, কম সুদ আয় ও বিকল্প আয়ে ক্ষতি লোকসান বাড়িয়েছে।
তামাকজাত পণ্যে কর বাড়ায় বিএটিবিসির মুনাফা কমেছে
বিএটিবিসি প্রায় ৯৫ বিলিয়ন টাকার ব্যবসা করেও তিন মাসে নিট মুনাফা করতে পেরেছে মাত্র ৩.০৫ বিলিয়ন টাকা—গত বছরের তুলনায় ৯২ কোটি টাকা কম। সরকারের বাড়তি কর, শুল্ক ও ভ্যাট এ খাতে বড় প্রভাব ফেলেছে। আলোচ্য তিন মাসে কোম্পানিকে সরকারকে দিতে হয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা আগের বছর থেকে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা বেশি।
১৩ কোম্পানির মধ্যে ৯টি গত অর্থবছরে অর্জিত মুনাফার তুলনায় বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে-গ্রামীণফোন, ম্যারিকো, লাফার্জহোলসিম, রবি, রেকিট বেনকিজার, সিঙ্গার, লিন্ডে বাংলাদেশ, আরএকে সিরামিকস ও ইউনিলিভার।
গত অর্থবছরে এ নয় কোম্পানি সম্মিলিতভাবে মুনাফা করেছে ৮১.৬৭ বিলিয়ন টাকা, কিন্তু লভ্যাংশ নিয়েছে ৯৭.৯৪ বিলিয়ন টাকা—অর্থাৎ মুনাফার চেয়ে ১৬.২৭ বিলিয়ন টাকা বেশি।
