বেতন গ্রেড বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ওপর পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করেছে। কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে তাদের পদযাত্রা কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। এতে দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হন।
আহতদের অনেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এদের মধ্যে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পোড়াদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ছয় শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশি হামলার প্রতিবাদে আজ (রোববার) থেকে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। এই কর্মসূচি চলাকালেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষক দশম গ্রেড দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামসুদ্দিন মাসুদ।
তিনি বলেন, দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চলবে।
শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ শেষে শিক্ষকরা কলম সমর্পণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগের দিকে যাত্রা শুরু করেন। শাহবাগ থানার সামনে পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দিয়ে থামিয়ে দেয়। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিনা উস্কানিতে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’-র দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে তারা বাধ্য হয়ে ব্যবস্থা নেয়। এ সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্যও আহত হন বলে জানানো হয়।
রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, শিক্ষকদের একটি দল পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে অগ্রসর হয়। তখন সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।
এক দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাউন্ড গ্রেনেড ভিড়ের মধ্যে পড়ায় আহতের সংখ্যা বেড়েছে। এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের কৌশলগত ঘাটতি থাকতে পারে।
সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো-দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ,১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান,শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি বাস্তবায়ন।
বর্তমানে দেশে ৬৫,৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন লাখ ৮৪ হাজারেরও বেশি শিক্ষক কর্মরত। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও কর্মবিরতির কারণে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে আনার যুক্তি নেই। তারা যেন ১১তম গ্রেড পেতে পারেন, সে বিষয়ে কাজ চলছে। এখনই আন্দোলনে যাওয়া যৌক্তিক নয়।
ম্যাংগোটিভি/আরএইচ

