প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের দেওয়া ১২টি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ট্যুরিস্ট পুলিশ মাঠে কাজ করছে। তবে কঠোর নজরদারির মধ্যেও সেন্টমার্টিন যাত্রাকে কেন্দ্র করে গত দুই সপ্তাহে একাধিক অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এতে টিকিট কিনে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন পর্যটকরা।
গত ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়। এ সময়ের মধ্যে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করেছেন। যাত্রার প্রথম দিনেই সরকার নির্ধারিত ট্রাভেল পাস ছাড়া টিকিট বিক্রির অভিযোগে ‘কেয়ারি সিন্দাবাদ’ নামের একটি জাহাজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
৩ ডিসেম্বর কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে পাঁচ যাত্রীর কাছে নকল কিউআর কোডসংবলিত টিকিট শনাক্ত করে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পরে দেখা যায়, একটি টিকিটে দুই যাত্রী ভ্রমণের চেষ্টা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এজেন্সি থেকে টিকিট কেনা ওই পর্যটকরা বিপাকে পড়লেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত তারা ভ্রমণের সুযোগ পান।
এছাড়া ১১ ডিসেম্বর ‘মিজান ট্রাভেলস’ নামের একটি এজেন্সি থেকে টিকিট কিনে প্রতারণার শিকার হন মানিকগঞ্জ থেকে আসা ৪৪ পর্যটক। অভিযোগের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই এজেন্সিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে ট্যুরিস্ট পুলিশ জেলা প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহায়তা করছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু জালিয়াতির ঘটনা শনাক্ত হয়েছে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ ১২ ডিসেম্বর জাহাজের যাত্রা বিলম্বিত হওয়াকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন এক পর্যটক। পরে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করলে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম বলেন, প্রতিদিন ভোর থেকে ঘাট এলাকায় যাত্রা তদারকিতে প্রশাসন অবস্থান করছে। কোনো অনিয়ম নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি পর্যটক সেন্টমার্টিনে নেওয়ার সুযোগ নেই। এ ছাড়াও বিভিন্ন শর্ত মানা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
বর্তমানে কক্সবাজার শহর থেকে প্রতিদিন ছয়টি জাহাজে প্রায় দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন। মৌসুমের শুরুতে যেখানে দৈনিক পর্যটক ছিল এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩৫০ জন, সেখানে এখন চাপ বেড়েছে। জাহাজ মালিকদের তথ্যমতে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনটি জাহাজের টিকিট আগাম বিক্রি হয়ে গেছে। এছাড়া ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে অগ্রিম বিক্রি হওয়া টিকিটের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।
সরকারি ট্রাভেল পাস ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, গত ১৪ দিনের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৮৭১টি ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হয়েছে। ওই দিন ছয়টি জাহাজে এক হাজার ৮৫৬ পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করেছেন।
সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, শুরুর দুই সপ্তাহে পর্যটকের চাপ তুলনামূলক কম ছিল। তবে বিজয় দিবসসহ সরকারি ছুটি থাকায় তৃতীয় সপ্তাহে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। মাসের শেষ দিন পর্যন্ত সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও রাতযাপনের অনুমতি না থাকায় তখন জাহাজ চলেনি। ১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতযাপনের অনুমতি দেওয়ায় এখন পর্যটকের চাপ বেড়েছে।
ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

