বিশ্বের দীর্ঘায়ু দেশ হিসেবে পরিচিত জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা প্রায় এক লাখে পৌঁছেছে-এমন তথ্য উঠে এসেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপে। দীর্ঘায়ু নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চললেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে-দীর্ঘ জীবন নাকি সুখী জীবন, কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে টাইম ম্যাগাজিনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন মার্কিন জেরিয়াট্রিশিয়ান (বৃদ্ধদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ) ডা. কেরি বার্নাইট। তার মতে, বার্ধক্যে শুধু সুস্থ থাকাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ‘জয়স্প্যান’-অর্থাৎ আনন্দময় ও অর্থবহ জীবনের পরিসর।

ডা. কেরি বার্নাইট বলেন, বিশ্বজুড়ে মানুষ দীর্ঘ জীবন পাওয়ার আশায় প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। কিন্তু সেই বাড়তি বছরগুলো যদি আনন্দহীন হয়, তাহলে দীর্ঘ জীবনের প্রকৃত মূল্য কোথায়—সেই প্রশ্ন তোলাই জরুরি। তার ভাষায়, “কত বছর বাঁচলাম-এটা নয়, বরং সেই বছরগুলো কেমন কাটল, সেটাই আসল।”

লাইফস্প্যান ও হেলথস্প্যানের পাশাপাশি তিনি নতুন একটি ধারণা তুলে ধরেছেন—‘জয়স্প্যান’। তিনি বলেন, নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ২০ বছরে তিনি অনেক প্রবীণ মানুষকে একাকিত্ব, হতাশা ও জীবনের উদ্দেশ্যহীনতায় ভুগতে দেখেছেন। তখনই তিনি উপলব্ধি করেন, বয়স বাড়া মানেই কষ্ট নয়।

২০২৫ সালে প্রকাশিত তার বই Joyspan: The Art and Science of Thriving in Life’s Second Half-এ সুখী বার্ধক্যের জন্য চারটি মূল অভ্যাসের কথা উল্লেখ করেছেন ডা. বার্নাইট।

প্রথম অভ্যাস হলো—নতুন কিছু শেখা, কৌতূহলী থাকা এবং নিজেকে চ্যালেঞ্জ করা। তার মতে, নতুন কিছু শেখা মানুষকে মানসিকভাবে সক্রিয় ও প্রাণবন্ত রাখে।

দ্বিতীয় অভ্যাস হিসেবে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবার, বন্ধু ও সমাজের বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে সক্রিয় সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর, যা একাকীত্ব দূর করতে সহায়ক।

তৃতীয়ত, কঠিন সময়ে মানসিকভাবে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা থাকা জরুরি। ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তা থাকলে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

চতুর্থ ও শেষ অভ্যাস হলো-অন্যের জন্য সময় বের করা এবং বিপদে পাশে দাঁড়ানো। এতে মানুষের মধ্যে এক ধরনের আত্মিক আনন্দ তৈরি হয়।

ডা. কেরি বার্নাইট বলেন, এসব অভ্যাস চর্চার মাধ্যমে শুধু মন ভালো থাকে না, শরীরও সুস্থ থাকে। তার নিজের মায়ের জীবনই এর বড় উদাহরণ। ৯৬ বছর বয়সেও তিনি একা থাকেন, প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি। স্বামীকে হারানো ও শারীরিক অসুস্থতার পরও তিনি জীবনে সুখী থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘জয়স্প্যান’ ধারণা আমাদের শেখায়-বার্ধক্য মানেই জীবনের শেষ নয়। বরং সঠিক অভ্যাস ও মানসিক প্রস্তুতির মাধ্যমে জীবনের শেষ অধ্যায়ও হতে পারে সবচেয়ে সুন্দর ও অর্থবহ।

Share.
Exit mobile version