টানা দরপতনে ক্লান্ত দেশের পুঁজিবাজারে হঠাৎই ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেখা দিয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তনের গুঞ্জনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সূচক ও লেনদেনে।

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (২২ এপ্রিল) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ-উভয় বাজারেই সূচকের উল্লেখযোগ্য উত্থান হয়েছে।

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

লেনদেনে বড় উল্লম্ফন

এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১২৬ কোটি টাকার বেশি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারির পর এটিই সর্বোচ্চ লেনদেন, যা বাজারে নতুন গতি ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকার। এছাড়া ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সামিট অ্যালায়েন্স পোর, একমি পেস্টিসাইড, মুন্নু ফেব্রিক্স, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, লাভেলো আইসক্রিম, অগ্নি সিস্টেম, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও পিপলস ইন্স্যুরেন্স লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় ছিল।

অধিকাংশ শেয়ারের দাম বেড়েছে

ডিএসইতে দিন শেষে ২১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১২১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৭টির দাম। ভালো লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৩০টির শেয়ার দর বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত বহন করে।

সিএসইতেও ইতিবাচক ধারা

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬০ পয়েন্ট বেড়েছে। এ বাজারে ২৩০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১০টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৯১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির। তবে সিএসইতে লেনদেন কিছুটা কমে ১৭ কোটি ৫২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও আস্থাহীনতার মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তারা মনে করছেন, এ পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে বাজারে আরও স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version