উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এরই মধ্যে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে দেশের অন্তত ১১টি জেলায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্যা ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডালিয়া ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।

তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের পাশাপাশি জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে।

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, নদীর পানি বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, সকাল ৯টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি আরও বাড়তে পারে বলে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর অববাহিকাভুক্ত লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।

এ ছাড়া সুরমা-কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর অববাহিকাভুক্ত সিলেট ও সুনামগঞ্জ, সোমেশ্বরী নদীর অববাহিকায় নেত্রকোনা এবং আত্রাই নদীর অববাহিকায় নওগাঁ জেলায়ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল, আত্রাই ও ছোট যমুনা অববাহিকার নওগাঁ, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ, এবং সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর অববাহিকার বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানির প্রবাহ আরও বাড়তে পারে। তাই নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version