রাজধানীর মগবাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেল বিস্ফোরণে সিয়াম মজুমদার (২০) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মগবাজার ফ্লাইওভারের নিচে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সিয়াম নিউ ইস্কাটন রোডের ‘জাহিদ কার ডেকোরেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সন্ধ্যার দিকে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে একটি শক্তিশালী ককটেল নিচে ছুড়ে মারা হয়। সেটি সিয়ামের মাথায় পড়ে বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাস্থলের একটি চায়ের দোকানের মালিক ফারুক জানান, সিয়াম চা খেতে দোকানে দাঁড়িয়েছিলেন। চা দেওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ওপর থেকে ককটেলটি এসে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রাণ হারান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে ককটেলটি নিক্ষেপ করা হয়েছে। এটি একটি শক্তিশালী ককটেল ছিল, যা সরাসরি মাথায় পড়ায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে নিহতের বাবা-মা ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। নিহতের বাবা আলী আকবর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমি গরিব মানুষ, কোনো রাজনীতি করি না। আমার ছেলেও কোনো অপরাধ করেনি। সন্ত্রাসীরা কেন আমার ছেলেকে মারল? আমি এই হত্যার বিচার চাই।”

নিহতের মা শিজু বেগম ছেলের মৃত্যুসংবাদ শুনে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরে পেয়ে তিনি বারবার ছেলের নাম ধরে আহাজারি করতে থাকেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সিয়ামের গ্রামের বাড়ি খুলনার এক গ্রামে। প্রায় সাড়ে চার বছর আগে পরিবারসহ ঢাকায় এসে নিউ ইস্কাটন রোডে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন তারা। সিয়ামের বাবা আলী আকবর রিকশাচালক। পরিবারের বড় ছেলে সিয়াম চার বছর ধরে কার ডেকোরেশনের দোকানে কাজ করছিলেন।

ঘটনার পর ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ, সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং সিআইডির ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ডিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে। নগরীতে চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।

Share.
Exit mobile version