লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন ও পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। মাঠ থেকে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে, কয়েক দিনের মধ্যেই সরবরাহ আরও বাড়ার কথা। তবুও বাজারে তৈরি হয়েছে কৃত্রিম সংকট-অভিযোগ এমনটাই। ফলে আবারো সিন্ডিকেটের পুরোনো ছকে বাঁধা পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা।

সরবরাহ কমের অজুহাতে মাত্র একদিনের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। দিনাজপুরের হিলিতে একদিন আগেও যেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা দরে, বর্তমানে তা ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন পেঁয়াজও ছাড় পায়নি; এর দাম ১১০ টাকা কেজি। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন।

হিলির পাইকারি বাজারে বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, দেশি পেঁয়াজের মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় সরবরাহ কিছুটা কমেছে। একদিন আগেও মোকামে প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম ছিল ৩ হাজার ২০০–৩ হাজার ৩০০ টাকা, এখন সেটি বেড়ে ৪ হাজার ২০০–৪ হাজার ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে। মণপ্রতি বেড়েছে ১ হাজার টাকা। ফলে খুচরা দামে এর প্রভাব পড়ছে।

বিক্রেতাদের দাবি, নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে উঠলেও সরবরাহ তুলনামূলক কম, তাই দাম বাড়তি। তবে ভারত থেকে আমদানি শুরু হলে দাম কমতে পারে বলেও মত তাদের।

তবে ব্যবসায়ীদের এমন বক্তব্যকে সরলভাবে নিতে নারাজ ভোক্তা ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সরবরাহ কমের অজুহাত দেখিয়ে সরকারকে আমদানির অনুমতি আদায়ের জন্যই সিন্ডিকেট দর বাড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। প্রতি বছর অক্টোবরের পর থেকেই এমন ছক কার্যকর হয়, যার ফলভোগ করতে হয় সাধারণ মানুষকে। আর প্রশাসন থাকে নীরব দর্শকের ভূমিকায়।

এই প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকাতেও। শুক্রবার কাওরান বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজি ১৫০ টাকায়। নয়াবাজারে ১৪০ টাকা, রামপুরায় ১৬০ টাকা এবং জিনজিরা বাজারে ১৪০–১৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ দুই দিন আগেও এসব বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল ১১০ টাকার মধ্যে। অক্টোবরের শেষ দিকে দাম ছিল ৭০ টাকা, আর সেপ্টেম্বরে ৬০–৬৫ টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. জামাল উদ্দীন বলেন, বাজারে সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। আমদানির অনুমতি আদায়ের জন্যই সিন্ডিকেটচক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এখনও দেশে এক লাখ টনেরও বেশি পুরোনো পেঁয়াজ মজুত আছে।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version