এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা গতবারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ পরিস্থিতিকে ‘অস্বস্তিকর’ উল্লেখ করে ফলাফলের কারণ অনুসন্ধানে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আববার (সি. আর. আবরার)।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এবারের এইচএসসির ফলাফল বাস্তবভিত্তিক, তবে অস্বস্তিকর। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই ফলাফলের দায় এড়াতে পারে না। আমরা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রকৃত কারণ বের করব।
তিনি আরও বলেন, দেশে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল যেখানে ‘পাসের হার’ এবং ‘জিপিএ-৫’-এর সংখ্যাকেই শিক্ষার মানদণ্ড হিসেবে দেখা হতো।
ফল ভালো দেখাতে গিয়ে শেখার সংকট আড়াল করার প্রবণতা আমরা বন্ধ করতে চাই। বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটানোই এখন আমাদের লক্ষ্য,- যোগ করেন শিক্ষা উপদেষ্টা।
তিনি জানান, মূল্যায়নের সময় শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যাতে সীমান্তরেখায় থাকা শিক্ষার্থীদের নম্বর প্রদানে ন্যায্যতা বজায় থাকে।
এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড়ে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা গত বছরের ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশের চেয়ে প্রায় ১৯ শতাংশ কম। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় একযোগে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
রাজধানীর বকশীবাজারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল হক জানান, এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন এবং ফেল করেছে ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন।
বিভিন্ন বোর্ডের পাসের হার: ঢাকা বোর্ড: ৬৪.৬২%, রাজশাহী: ৫৯.৪০%, কুমিল্লা: ৪৮.৮৬%, যশোর: ৫০.২০%, চট্টগ্রাম: ৫২.৫৭%, বরিশাল: ৬২.৫৭%, সিলেট: ৫১.৮৬%, দিনাজপুর: ৫৭.৪৯%, ময়মনসিংহ: ৫১.৫৪%, মাদরাসা বোর্ড: ৭৫.৬১%, কারিগরি বোর্ড: ৬২.৬৭%।
এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৯ হাজার ৯৭ জন, যা গত বছরের ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
পাসের হার ও জিপিএ-৫-উভয় ক্ষেত্রেই মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। তবে শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠান কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪৫টিতে, আর শতভাগ ফেল প্রতিষ্ঠান বেড়ে হয়েছে ২০২টি।
ম্যাংগোটিভি/আরএইচ
