ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরান। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)–কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পর রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এই পাল্টা সিদ্ধান্তের কথা জানায় তেহরান।

ইরানি সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেন, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় গৃহীত আইনের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সংহতির প্রকাশ হিসেবে তিনি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ইউনিফর্ম পরে সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন।

তবে এই ঘোষণার বাস্তবিক প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে নিষ্ঠুরতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইইউর এই সিদ্ধান্তকে ‘বড় কৌশলগত ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, এমন এক সময়ে যখন বহু দেশ সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে কাজ করছে, তখন ইউরোপ আগুনে ঘি ঢালছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত আইআরজিসি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি আনুগত্যশীল একটি অভিজাত প্যারামিলিটারি বাহিনী। পৃথক নৌ ও বিমান বাহিনীসহ এর স্থলবাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে, কানাডা ২০২৪ সালে এবং অস্ট্রেলিয়া ২০২৫ সালে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

এদিকে ইইউর এই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাজ্যের ওপরও চাপ বাড়ছে আইআরজিসিকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করেনি দেশটি, তবে ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছে লন্ডন। সূত্র: এএফপি

Share.
Exit mobile version