ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় ও আধা-রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন।’ একই খবর নিশ্চিত করেছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও ফার্স নিউজ এজেন্সি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-ও এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান হামলার মধ্যেই খামেনি নিহত হন। হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

উত্তরসূরি কে?

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হবেন-তা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে।

মোজতাবা খামেনি

মোজতাবা খামেনি (৫৬) খামেনির দ্বিতীয় পুত্র। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস-এর ওপর তার প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
তবে শিয়া রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পারিবারিক উত্তরাধিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। এছাড়া তার কোনো সরকারি পদ নেই— যা তার জন্য বড় বাধা হতে পারে।

আলীরেজা আরাফি

আলীরেজা আরাফি (৬৭) একজন প্রতিষ্ঠিত ইসলামি পণ্ডিত। তিনি আলেমদের পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিল-এর সদস্য। গার্ডিয়ান কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা যাচাই এবং আইন পর্যালোচনার দায়িত্ব পালন করে। তবে সামরিক কাঠামোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তুলনামূলক কম।

মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি

মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি (৬০) কট্টরপন্থি ইসলামি আলেম হিসেবে পরিচিত। তিনি রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সমর্থন পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পশ্চিমবিরোধী অবস্থানের জন্য তিনি আলোচিত।

হাসান খোমেনি

হাসান খোমেনি (৫০) ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-এর নাতি। বর্তমানে তিনি খোমেনির সমাধিসৌধের তত্ত্বাবধায়ক। রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থি হিসেবে পরিচিত হলেও প্রশাসন বা সামরিক কাঠামোয় তার সরাসরি প্রভাব কম।

কীভাবে নির্বাচিত হবেন সর্বোচ্চ নেতা?

ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস- ৮৮ সদস্যের একটি ধর্মীয় পরিষদ। তারা দেশের শীর্ষ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে একজন যোগ্য আলেমকে মনোনীত করে থাকেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন নেতা নির্বাচনে ধর্মীয়, সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version