দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে গণভোটের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন পথচলার অঙ্গীকার নিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ চলে। ভোট শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয়েছে গণনা।
গত রাতের বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া সারাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কড়া নিরাপত্তায় ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা কনফিডেন্ট। আলহামদুলিল্লাহ, বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’ বিএনপি জয়ী হলে জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের সঙ্গে ছিলেন, তাদের নিয়ে দেশ পরিচালনার ইচ্ছা রয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতি এই ভোটের অপেক্ষায় ছিল, বিশেষ করে যুবসমাজ। এই ভোটের মাধ্যমে এমন সরকার গঠিত হোক, যা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের নয়; বরং ১৮ কোটি মানুষের।’ তিনিও বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিভিন্ন জরিপে বিএনপির দিকে জয়ের পাল্লা ভারি বলা হলেও চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আজ রাত বা আগামীকাল ফল ঘোষণা হলে স্পষ্ট হবে নতুন সরকার গঠনের চিত্র।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখের বেশি, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখের বেশি এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২২০ জন। মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩১ জন; এর মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র। বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামী লড়েছে ২২৭ আসনে।
দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ বলে জানান ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে কোথাও ভোট স্থগিত হয়নি। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।
ইসির তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য ও ৮ লাখ নির্বাচনি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ৩৫ হাজারের বেশি দেশীয় এবং সাড়ে ৩০০ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ভোট প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

