ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি ‘সম্ভবত’ চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শনিবার (১৩ জুন) দেওয়া এক পোস্টে শাহবাহ শরিফ বলেন, ‘আমরা একটি শান্তি চুক্তির ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি চূড়ান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তান এর পরপরই চুক্তিটির ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার পর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।’

এর আগে শুক্রবার আব্বাস আরাঘচি জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাছাকাছি পৌঁছেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামাবাদ চুক্তিটি এর আগে কখনো এত কাছাকাছি আসেনি।’ আব্বাস আরাঘচি অবশ্য আলোচনা চলাকালে চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে জল্পনা-কল্পনা করা থেকে বিরত থাকার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক্স পোস্টে লেখেন, ‘চুক্তিটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যমের উচিত এটির বিষয়বস্তু নিয়ে জল্পনা-কল্পনা করা থেকে বিরত থাকা।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে সমঝোতা বা চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ কর্মপন্থার অংশ হিসেবে, যথাসময়ে সমস্ত বিবরণ জনগণের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে।’

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও আলোচনার পথ প্রশস্ত হবে। শুক্রবার চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

ওই কূটনীতিক জানান, উভয় পক্ষ খসড়া সমঝোতা স্মারকে সম্মতি দিয়েছে, তবে এতে এখনও চূড়ান্ত স্বাক্ষর বাকি রয়েছে। এ চুক্তিটির নাম হবে ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’।

কূটনীতিকের তথ্য অনুযায়ী চুক্তির কিছু মূল বিষয় নিচে তুলে ধরা হলো—

চুক্তি স্বাক্ষরের পর লেবাননসহ ‘সব ফ্রন্টে’ ৬০ দিন, অর্থাৎ দুই মাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হবে।

হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং যাতায়াতের জন্য ইরান কোনো মাশুল আরোপ করবে না। এটি জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পণ্যের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করবে। চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিন পর এই জলপথ দিয়ে যান চলাচল যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে আসবে।

ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং চুক্তির অগ্রগতি ও সদিচ্ছার সঙ্গে অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকার ভিত্তিতে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। তবে এতে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত হিসেবে রয়েছে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার। এ ছাড়া উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কূটনীতিক অবশ্য জানাননি, এই চুক্তিতে ইরানের জব্দকৃত শত শত কোটি ডলারের তহবিল ছাড়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত আছে কি না; এটি ছিল ইরানের একটি প্রধান দাবি, যা চুক্তিটি আটকে রেখেছিল বলে জানা গেছে। ওই কূটনীতিক বলেন, আলোচনার শেষ দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালির অবস্থা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version