রাজধানীর হাতিরঝিল থানার যুবদল নেতা আরিফ সিকদার হত্যা মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন আগামী বৃহস্পতিবার ধার্য করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান এ আদেশ দেন।

এর আগে সোমবার কুমিল্লা জেলা কারাগারের সামনে থেকে খাদিজা ইয়াসমিন বিথীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পরিদর্শক মো. মাজহারুল ইসলাম মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

তবে এদিন মামলার মূল নথি আদালতে উপস্থাপন না হওয়ায় বিচারক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও তাঁর মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আসামি খাদিজা তাঁর পিতার সঙ্গে মগবাজার ও হাতিরঝিল এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালান। ভিকটিম আরিফ সিকদারকে তাঁরা প্রতিপক্ষ মনে করতেন। সুব্রত বাইন ও খাদিজার প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ও পরিকল্পনায় আরিফ সিকদারকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। এ কারণে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল রাতে হাতিরঝিল থানাধীন নয়াটোলা মোড়ল গলির ‘দি ঝিল ক্যাফে’র সামনে যুবদল নেতা মো. আরিফ সিকদারকে গুলি করা হয়। আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ এপ্রিল তিনি মারা যান। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহত আরিফ সিকদারের বোন রিমা আক্তার বাদী হয়ে সুব্রত বাইনের সহযোগী মাহফুজুর রহমান বিপুসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আরিফের মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। এ মামলায় এরই মধ্যে সুব্রত বাইনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version