সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আর সরকারি সেবা নিতে ঘুস দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে নোয়াখালী জেলা।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস)-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন ২০২৫ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। জরিপটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জরিপে দেখা যায়, গত এক বছরে যেসব নাগরিক সরকারি সেবা গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশ ঘুস ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষের হার ৩৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং নারীর হার ২২ দশমিক ৭১ শতাংশ।
ঘুস দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলা ভিত্তিক বিশ্লেষণে নোয়াখালী শীর্ষে রয়েছে। সেখানে প্রায় ৫১ শতাংশ সেবাগ্রহীতা সরকারি সেবা পেতে ঘুস দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি ঘুস-দুর্নীতির শিকার হতে হয়েছে বিআরটিএতে—৬৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (৫৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ) এবং পাসপোর্ট অফিস (৫৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ)। ঘুসের ধরন হিসেবে ৯৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ সেবাগ্রহীতা টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
জরিপে নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার আলোকে নিরাপত্তা, সুশাসন, সরকারি সেবার মান, দুর্নীতি, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার এবং বৈষম্য সংক্রান্ত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সূচকের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়।
জাতীয় পর্যায়ে জরিপে অন্তর্ভুক্ত খানাগুলোর গড় সদস্য সংখ্যা চারজন। এর মধ্যে ৮১ দশমিক ৯৭ শতাংশ পুরুষপ্রধান পরিবার এবং ১৮ দশমিক ০৩ শতাংশ নারীপ্রধান পরিবার।
নিরাপত্তা অনুভূতির বিষয়ে জরিপে উঠে আসে, দেশের ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ নাগরিক সন্ধ্যার পর নিজ বাসার আশপাশে একা চলাফেরা করতে নিরাপদ বোধ করেন। তবে পুরুষদের তুলনায় নারীদের নিরাপত্তা বোধ তুলনামূলকভাবে কম-পুরুষ ৮৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ, নারী ৮০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে নিরাপদ বোধ করেন ৯২ দশমিক ৫৪ শতাংশ নাগরিক।
সুশাসন প্রসঙ্গে জরিপে দেখা যায়, মাত্র ২৭ দশমিক ২৪ শতাংশ নাগরিক মনে করেন যে তারা সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারেন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাবের ক্ষেত্রে এই হার আরও কমে ২১ দশমিক ৯৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জাতীয়ভাবে প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৪ দশমিক ৬২ শতাংশ) নাগরিক মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সাড়াপ্রবণ।
গত ১২ মাসে সরকারি সেবা গ্রহণের চিত্র তুলে ধরে জরিপে বলা হয়, ৪৭ দশমিক ১২ শতাংশ নাগরিক সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া ৪০ দশমিক ৯৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের অন্তত একটি সন্তান সরকারি প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। পরিচয়পত্র বা নাগরিক নিবন্ধনসহ অন্যান্য সরকারি সেবা গ্রহণের চেষ্টা করেছেন ৭৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ মানুষ।
সেবার মানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবায় সামগ্রিক সন্তুষ্টির হার ৭২ দশমিক ৬৯ শতাংশ, প্রাথমিক শিক্ষায় ৮১ দশমিক ৫৬ শতাংশ, মাধ্যমিক শিক্ষায় ৭৮ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং অন্যান্য সরকারি সেবায় ৬৬ দশমিক ৯১ শতাংশ বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

