ঈদুল ফিতরের আগে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে বকেয়া নগদ প্রণোদনার অর্থ দ্রুত ছাড় এবং স্বল্পসুদে বিশেষ ঋণ সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনটি বলেছে, রপ্তানি অর্ডার কমে যাওয়া এবং কারখানা বন্ধ হওয়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বেতন-বোনাস দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নরের কাছে পাঠানো চিঠিতে বিজিএমইএ জানায়, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও মার্চ মাসের অগ্রিম মজুরি পরিশোধের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রয়োজন। তাদের দাবি-দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ স্বল্পসুদে ঋণ হিসেবে দেওয়া হলে কারখানাগুলো শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে পারবে।

বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইনামুল হক খানের সই করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, বৈশ্বিক মন্দা ও শুল্ক যুদ্ধের কারণে রপ্তানি আয় কমেছে। ফলে অনেক কারখানা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে এবং প্রায় ৪০০ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। নগদ সহায়তা কমে যাওয়ায় কারখানাগুলোর আর্থিক সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়েছে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে পোশাক রপ্তানি আয় ২.৪৩ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার পরিমাণ ১২.৯০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হয়েছে।

বিজিএমইএ দাবি করেছে, ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধের জন্য তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১২ মাসে পরিশোধযোগ্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানগুলো স্বস্তি পাবে এবং শ্রমিকদের পাওনা সময়মতো দেওয়া সম্ভব হবে।

সংগঠনটি আরও বলেছে, রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া, ডেফার্ড শিপমেন্ট এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেক কারখানা আর্থিক চাপে আছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের সহযোগিতা ছাড়া শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু সহায়তা দিতে পারে।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version