জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় আজ রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) শেষ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শেষ সাক্ষী হিসেবে হাজির হবেন মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মো. আলমগীর।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জবানবন্দির অংশবিশেষ এবং জব্দকৃত ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সম্প্রচার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর মামলার ২২তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। ওইদিন সাক্ষ্য দেন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। পরে তাকে জেরা করেন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।

তদন্তকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৬৯টি অডিও ক্লিপ ও তিনটি মোবাইল নম্বরের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) জব্দ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এসব অডিও কথোপকথন সম্বলিত তিনটি সিডি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয় এবং শুনানো হয়।

প্রসিকিউশন পূর্বে ৮১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেছে। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে দেশজুড়ে হত্যাযজ্ঞ চালানোর বীভৎস বর্ণনা উঠে এসেছে। শহীদ পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ ঘটনায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।

গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র মোট ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার, যার মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দ তালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার ৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে শুরু হবে যুক্তিতর্ক। এরপর রায়ের পালা।

ম্যাংগোটিভি/আরএইচ

Share.
Exit mobile version