পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ বেসরকারি ব্যাংক—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক—একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা, আমানতকারীদের চাপ মোকাবিলা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বিশেষ সভায় পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর ৯ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদ নীতিগত অনুমোদন প্রদান করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, নতুন ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা সরকার দেবে—১০ হাজার কোটি টাকা নগদে এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা সুকুক বন্ডের মাধ্যমে উত্তোলন করা হবে। এছাড়া ১৫ হাজার কোটি টাকা প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকে শেয়ার রূপান্তরের মাধ্যমে মূলধন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সরকারি কমিটি জানায়, নতুন ব্যাংকের সংঘবিধি ও সংঘস্মারক চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সব অনুমোদন শেষে নিবন্ধনের জন্য পাঠানো হবে আরজেএসসিতে।
বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা
পাঁচ ব্যাংক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় শেয়ারধারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “শেয়ারবাজারে এই পাঁচ ব্যাংকের বিনিয়োগকারীদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”
অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি পাঠায়। কিন্তু চিঠির কোনো জবাব এখনও পায়নি বলে জানিয়েছেন বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম।
আমানতকারীদের ফেরত নীতিমালা
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত দ্রুত ফেরত দেওয়া হবে। দুই লাখ টাকার বেশি আমানত ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মধ্যে ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের নগদ অর্থের পরিবর্তে নতুন ব্যাংকের শেয়ার দেওয়া হবে।
বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি প্রসঙ্গে সরকারের ব্যাখ্যা
একীভূতকরণে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এমন প্রচারণাকে “গুজব” আখ্যা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গত ১৩ অক্টোবর পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ব্যাংকের দুরবস্থার জন্য আমানতকারী বা বিনিয়োগকারীরা দায়ী নন। তাই শেয়ারধারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে স্বচ্ছভাবে একীভূতকরণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তারা।

