নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, ঘুষ ও টাকা পাচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আয়োজিত সংলাপে এ দাবি তোলেন তারা।
‘সমৃদ্ধির সংলাপ: বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য কৌশলগত ভাবনা’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ঘুষ ও চাঁদাবাজির কারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা দূর না হলে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ টেকসই হবে না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঘুষকে ‘স্পিড মানি’ নামে বৈধ করার সংস্কৃতিই শিল্পখাতকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। নির্ধারিত সময়ে কারখানা চালু না হলেও ব্যাংকঋণের সুদ চলতে থাকে, ফলে উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়েন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে এই পরিস্থিতি চিরতরে বদলাতে হবে এবং লাল ফিতা সংস্কৃতি ভেঙে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশীয় বিনিয়োগকারীরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। তহবিল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ক্ষমতায় এসে যেন কারও সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি না পায় কিংবা আত্মীয়স্বজন রাতারাতি ধনী না হয়-এমন সংস্কৃতিও ভাঙতে হবে।
অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়, বরং জাতির কল্যাণ। যারা অর্থ ফেরত আনবেন, রাষ্ট্র তাদের সম্মান দেবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। নতুন সরকার গঠিত হলে বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। কিন্তু গত দেড় বছরে সরকার যেন বেসরকারি খাত থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছে, যা বিনিয়োগের জন্য নেতিবাচক।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, লাল ফিতা আসলে মূল সমস্যা নয়, সমস্যা রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। সরকার চাইলে লাল ফিতা পায়ের নিচে রাখা সম্ভব। আরেক সাবেক সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ইউটিলিটি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে শিল্প স্থাপনে বাড়তি বিনিয়োগ ব্যয় হচ্ছে, যা উৎপাদন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ব্যবসায়ীদের চলাফেরা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। অযথা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ভয় বিনিয়োগ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, সরকারি সহায়তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণমূলক, প্রতিযোগিতাবান্ধব নয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা গেলে পুরো শিল্পখাতই এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীদের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে। নীতিনির্ধারণে ব্যবসায়ীদের যুক্ত না করলে শিল্প খাতের অগ্রগতি সম্ভব নয়।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিল্পোদ্যোক্তারা আলোচনায় অংশ নেন।


