যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য ব্যয় আরও বেড়ে গেল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৩৮টি দেশের নাগরিকদের জন্য ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশসহ নতুন কয়েকটি দেশের নাম যুক্ত করে। পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসেবে)।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা যদি বি১/বি২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হন, তাহলে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার বন্ড নির্ধারণ করা হবে। বন্ডের পরিমাণ নির্ভর করবে আবেদনকারীর প্রোফাইল ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপর।

এই বন্ড জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম Pay.gov–এর মাধ্যমে অর্থ প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে বন্ডের শর্তে সম্মতি জানাতে হবে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এটি একটি পাইলট কর্মসূচি, যা গত বছরের আগস্টে প্রথম চালু করা হয়। তখন সীমিত কয়েকটি দেশ এই তালিকায় ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়ানো হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই ভিসা বন্ড নীতি ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে পর্যটন ও স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক সফরে আগ্রহীদের জন্য এটি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উল্লেখ্য, নতুন তালিকায় আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

Share.
Exit mobile version