ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে শুটারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

ডিবির একটি দল গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন হত্যাকাণ্ডের ‘প্রাইম শুটার’ জিনাত, সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারী বিল্লাল এবং তাদের এক সহযোগী।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে-গ্রেপ্তার হওয়া তৃতীয় ব্যক্তি শুটার ও পরিকল্পনাকারীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিপরীতে স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের আহ্ছানউল্লা টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে দুর্বৃত্তরা মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা সুফিয়ান বেপারি ওরফে মাসুদ (৫০) গুলিবিদ্ধ হন। তিনি কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে—হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২৫ মিনিট আগে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে আসেন প্রধান দুই সন্দেহভাজন। গলির মুখে আগে থেকেই অপেক্ষায় থাকা এক সহযোগীর কাছে মোটরসাইকেলটি রেখে তারা গলির ভেতরে অন্ধকার স্থানে ওত পেতে থাকেন। হত্যাকাণ্ডের পর ওই সহযোগী মোটরসাইকেল নিয়ে ফার্মগেটের দিকে পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে অন্তত চারজনের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দুজন গুলি চালানোর পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। আরেকজন গলির ভেতরে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাহাটি করায় প্রথমে সন্দেহ এড়ালেও পরবর্তী ফুটেজে তাকে অন্যদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করতে দেখা যায়। অপর একজন গলির মুখে অবস্থান করছিল।

মুছাব্বির হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে তেজগাঁও থানার সামনে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা। পরে তারা কারওয়ান বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা জানান, নতুন সিসিটিভি ফুটেজে হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনের বেশ স্পষ্ট ছবি পাওয়া গেছে। এগুলোর মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হত্যার পেছনের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। আধিপত্য বিস্তারসহ সম্ভাব্য সব দিক মাথায় রেখে তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামী আগে থেকেই হত্যার হুমকিতে ছিলেন এবং বিষয়টি তাকে একাধিকবার জানিয়েছিলেন।

পুলিশ জানায়, কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেওয়া এবং এর নেপথ্যে থাকা সবাইকে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Share.
Exit mobile version