ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতায় রাজি নয় তেহরান। স্পষ্ট ভাষায় এমন অবস্থান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আন্তর্জাতিক আরবি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল আল আরাবিয়া বলছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) পাকিস্তান সফরকালে তিনি বলেন, ইরানের হাতে মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে দেশটি আজ গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতো।

পেজেশকিয়ান বলেন, “আমাদের আত্মরক্ষার জন্য যে ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সেগুলো না থাকলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে গাজার মতো গুঁড়িয়ে দিত। তারা বৃদ্ধ কিংবা শিশুকেও ছাড় দিত না।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো অবস্থাতেই কারও সঙ্গে আলোচনা হবে না। এ বিষয়ে আমরা কখনোই সমঝোতায় যাব না।”

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এ সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও নিশ্চিত করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কোনো উল্লেখ নেই।

যুদ্ধ চলাকালে ইরান উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশ ও ইসরায়েলের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার ড্রোন ছুড়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, আশির দশকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময় দুর্বল আকাশ প্রতিরক্ষার ঘাটতি পূরণে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তোলে। পরে এর পাল্লা ও নির্ভুলতা আরও বাড়ানো হয়।

ইরান থেকে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচিকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখে আসছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে তেহরানের সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় আনতে চেয়েছিল।

তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দেন। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, `অন্য দেশগুলোর কাছে যদি এসব অস্ত্র থাকে, তাহলে ইরানের না থাকাটা কিছুটা অন্যায্য।’

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version