বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রণীত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’–এর বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (১২ নভেম্বর) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও আসিফ হাসানের দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। আদালত এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে মতামত দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়, বিএসইসি ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের পক্ষে আইনজীবী কামাল হোসেন জানান, আদালত প্রশ্ন তুলেছেন-বিএসইসির প্রণীত নতুন মার্জিন আইন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। তবে আইনটির কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়নি, অর্থাৎ বিধিমালাটি বলবৎ থাকছে।
বিএসইসির নতুন বিধিমালায় মার্জিন অর্থায়নের ওপর বেশ কয়েকটি নতুন শর্ত ও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
মূল বিধানসমূহ:
কেবলমাত্র ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারেই মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে। কোনো ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানি বছরে ন্যূনতম ৫% লভ্যাংশ না দিলে, সেই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। মার্জিন অর্থায়নকৃত শেয়ার পরবর্তীতে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রূপান্তরিত হলে, বিনিয়োগকারীকে ৬০ ট্রেডিং দিবসের মধ্যে তা বিক্রি করতে হবে।এসএমই, এটিবি বা ওটিসি প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত শেয়ার মার্জিন অর্থায়নের আওতার বাইরে থাকবে। মার্জিন হিসাবের গ্রাহকের নূন্যতম বিনিয়োগ থাকতে হবে ৫ লাখ টাকা, এবং তার পোর্টফোলিওর মূল্যও একই সীমায় থাকতে হবে। নির্বাচিত সিকিউরিটির উন্মুক্ত বাজার মূলধন ন্যূনতম ৫০ কোটি টাকা না হলে তাতে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। শেয়ারের মূল্য-আয় (P/E) অনুপাত ৩০ এর বেশি হলে সেই শেয়ারেও মার্জিন অর্থায়ন নিষিদ্ধ।
কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ‘অস্তিত্বের হুমকি’ বা বিরূপ মন্তব্য থাকলে, সেখানে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। পরিচালকরা নিজস্ব কোম্পানির শেয়ার কেনায় মার্জিন অর্থায়ন নিতে পারবেন না।
বিধিমালাটি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসইসি। তবে বিনিয়োগকারীরা দাবি করেছেন, এতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।
আদালতের রুলের পর এখন এ বিষয়ে বিএসইসি ও অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের ব্যাখ্যা দেবে, এরপর পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।
