২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বেলা পৌনে ৩টার দিকে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রায়ে শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় মামলার শহীদ পরিবার ও আন্দোলনকারীদের কয়েকজন ট্রাইব্যুনাল কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১১টায় রায় ঘোষণার কথা থাকলেও দেড় ঘণ্টা বিলম্বে শুরু হয় কার্যক্রম।
রায় পড়ার শুরুতে চেয়ারম্যান বিচারপতি মর্তুজা মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা প্রসিকিউশন, তদন্ত সংস্থা, ডিফেন্স আইনজীবী, সাক্ষী ও সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জানান, রায় ৪৫৩ পৃষ্ঠার এবং ছয় ভাগে উপস্থাপিত হবে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন, রয়টার্স ও ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজে রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ঢাকার ১০টি পয়েন্টে বড় পর্দায়ও রায় দেখানো হয়।
দেড় দশক ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন করে। আদালত তা গ্রহণ করলে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রনায়কের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হলো।
রায় ঘোষণার আগে কড়া নিরাপত্তায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তবে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান দেশত্যাগ করায় আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে যা ছিল
তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতার ওপর পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, চাঁনখারপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা, আশুলিয়ায় ছয়জনকে আগুনে পোড়ানো।
মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দেন। প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় অডিও–ভিডিও, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, ফরেনসিক রিপোর্ট ও বিভিন্ন আলামত। সাবেক আইজিপি মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। ১২–২৩ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তিতর্ক শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হলো।
