সারা দেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিনের সকালে হওয়া এই ভূমিকম্পে বিভিন্ন স্থানে ভবন, দেয়াল ও সানশেড ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত হওয়া ৫.৭ মাত্রার এ ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব ছিল ২৬ সেকেন্ড। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এটি গত ৩০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে উৎপত্তি হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

নরসিংদীর সদর উপজেলার গাবতলী এলাকায় বাড়ির সানশেড ভেঙে পড়ে ওমর (১০) নামে এক শিশু নিহত হয়। পরে তার বাবা দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বলও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ওসি মো. ফারুক ঘটনাটি নিশ্চিত করেন।

এছাড়া জেলার পলাশ উপজেলার মালিতা গ্রামে মাটির ঘর ধসে কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫); কাজীরচর নয়াপাড়ায় নাসির উদ্দিন (৬৫) এবং শিবপুরের আজকীতলা গ্রামের ফোরকান মিয়া (৪৫)—এ তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মেনহাজুল আলম।

রাজধানীর বংশালের কসাইটুলী এলাকায় পাঁচ তলা ভবনের রেলিং নিচে পড়ে রাফিউল ইসলাম (২০), আব্দুর রহিম (৪৮) ও তার ছেলে মেহরাব হোসেন (১২) নিহত হন। বংশাল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়া মুগদার মদিনা বাগ এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের রেলিং ধসে পড়ে মাকসুদ (৫০) নামে এক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ইসলামবাগ এলাকায় একটি বাড়ির দেয়াল ধসে ফাতেমা নামে এক বছরের শিশু নিহত হয়েছে। ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী-স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যালে আহত ১০ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন, ঢাকা মেডিকেলে ১০ জন ভর্তি, গাজীপুর তাজউদ্দীন মেডিক্যালে ১২ জন চিকিৎসাধীন, নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ৪৫ জন আহত, এর মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাদের ঢামেকে পাঠানো হয়েছে।

ভূমিকম্পে বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান, আহতদের যথাযথ চিকিৎসার নির্দেশ দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশনা দেন।

Share.
Exit mobile version