২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত আর্থিক চাপ ও অনিশ্চয়তার বড় ধরনের ধাক্কা খায়, যার প্রভাব পড়ে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতেও। বছরজুড়ে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় সিএসআর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ কম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর আগের বছর ২০২৩ সালে এ খাতে ব্যয় হয় ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং ২০২২ সালে ছিল ১ হাজার ১২৯ কোটি টাকা। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকার বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত এক দশকে এটিই সর্বনিম্ন সিএসআর ব্যয়, যা ব্যাংক খাতের আর্থিক দুর্বলতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্যাংকার ও সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে আসে। একই সময়ে একাধিক ব্যাংকের দুর্বলতা প্রকাশ পাওয়ায় খাতটির স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।

তাদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন ধরনের অনুদান ও চাপ কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে সতর্কভাবে সিএসআর ব্যয় করছে। এতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক সময় এই অর্থ প্রকৃত সামাজিক উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় না হয়ে অনুৎপাদনশীল খাতে চলে যায়, যা মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে নিট মুনাফার নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নির্ধারিত অনুপাত অনুসরণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না।

প্রতিবেদন বলছে, ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি ৩৬ শতাংশ ব্যয় হয়েছে ‘অন্যান্য’ খাতে। শিক্ষায় ব্যয় ২৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ।

এছাড়া ১১টি ব্যাংক ২০২৫ সালে সিএসআর খাতে কোনো ব্যয়ই করেনি। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি লোকসানি ব্যাংক মুনাফা না করেও সীমিত পরিসরে সিএসআর ব্যয় করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে আগামী বছরগুলোতেও সিএসআর ব্যয়ে এমন নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version