দীর্ঘদিন ধরে মন্দাভাব কাটছে না দেশের শেয়ারবাজারে। প্রতিদিনই পুঁজি হারাচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগ শেয়ারে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর উপস্থিতি কমেছে, তবে বিপরীতে বেড়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত অক্টোবর শেষে প্রকাশিত ১৪০টি কোম্পানির মধ্যে ৭৩টিরই প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ধারণ বেড়েছে, যা বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা।
অক্টোবর শেষে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লিমিটেডে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ধারণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে—আগস্টে ১৮.৬৬ শতাংশ থেকে অক্টোবরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ শতাংশে। এছাড়া মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, এবি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, এনসিসি ব্যাংক, এমজেএল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস, রানার অটোমোবাইলস, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্রীনডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, ডিবিএইচ, ম্যারিকো, গ্রামীণফোন, ওয়ালটন, বাটা সু, বার্জার পেইন্টস, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও সামিট পাওয়ারসহ আরও বেশ কিছু কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ধারণ বেড়েছে।
বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, রবি আজিয়াটা, বেক্সিমকো, তিতাস গ্যাস, ব্যাংক এশিয়া, ন্যাশনাল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ন্যাশনাল পলিমার, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো ফার্মা ও হাইডেলবার্গ মেটারিয়ালসসহ ৫৫টি কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কমেছে।
অপরিবর্তিত রয়েছে যেসব কোম্পানিতে;
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, আইসিবি, পাওয়ার গ্রিড, প্রিমিয়ার লিজিং, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারসহ ১২টি কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ধারণের হার অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে। তারা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই বিনিয়োগ প্রবণতা বজায় থাকলে বাজারের মৌলিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
