বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীদের সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার ধাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিডার সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়েছে, যার ফলে দায়িত্ব বণ্টনে আসবে আরও স্বচ্ছতা এবং সেবার গতি ও মান উভয়ই বাড়বে।
রোববার (২ নভেম্বর) বিডার মাল্টিপারপাস হলে কাঠামোগত সংস্কার সংক্রান্ত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বিডা অন্যান্য সাধারণ সরকারি দপ্তরের মতো নয়। এটি একটি বিশেষায়িত সংস্থা, যার মূল দায়িত্ব বিনিয়োগকারীদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত সাড়া দেওয়া। বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই বিডাকেও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এই কাঠামোগত সংস্কার আমাদের দেশি ও বিদেশি অংশীজনদের দীর্ঘদিনের পরামর্শের ফলাফল, যা আমরা এখন বাস্তবে রূপ দিচ্ছি। বিডার নতুন কাঠামোগত সংস্কারের অধীনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— নির্বাহী সদস্য পদে এখন থেকে বিডার নিজস্ব কর্মকর্তা ছাড়াও বেসরকারি খাতের পেশাজীবীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন, যা পূর্বে শুধুমাত্র প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি এবং ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন শাখাকে পৃথক ইউনিট হিসেবে গঠন করা হয়েছে। প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় বিশেষ ডেস্ক চালু করা হচ্ছে। বিনিয়োগ সহায়তায় খাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি দেশের সব বিনিয়োগ সংস্থা সমন্বিত করে একটি একীভূত কাঠামো প্রণয়নের রোডম্যাপ প্রণয়ন করছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা খণ্ডিত সেবা ব্যবস্থার পরিবর্তে একক একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রয়োজনীয় সব সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। বিডা ইতোমধ্যে নতুন কাঠামোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শিগগিরই এই কাঠামো সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য বিডার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
