বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন-টেলিকম নীতিমালা ক্রিটিক্যাল। স্টেক হোল্ডারদের মতামত নিয়ে এসব নীতিমালা করতে হবে। গত ১৫ বছরে এই সেক্টরে যে ধরনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, বিটিআরসির স্বাধীনতা ধ্বংস করা হয়েছে। এখানে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার।
শনিবার (২২ নভেম্বর) ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ: টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিখাতের দেশীয় উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যত’ শীর্ষক শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার একটি হোটেলে টিআরএনবি আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, যে পরিবর্তনের ফলে দেশিয় উদ্যোক্তা এবং ডিজিটাল সিকউরিটিকে সুরক্ষা দিতে হবে। যে খাতে এত প্রোফিট, সেখানে দেশিয় বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে পারবে না কেন? নীতিমালা করার সময় এগুলো মাথায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন, আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, টেলিকম সেক্টরকে সুরক্ষা করার দায়িত্ব আগামী দিনে যারা নির্বাচিত হবে তাদের। অনির্বাচিত সরকার যে নীতিমালা করল, টেলিকম-সহ সব নীতিমালা নির্বাচিত সরকার রিভিউ করবে।
বেস্ট, ফাস্ট ও সিকিউরড নেটওয়ার্ক তৈরিতে নতুন টেরলিকম নীতিমজলায় স্পেকট্রাম ও ব্রডব্যান্ডের বিকাশে দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তাদের মধ্যে কোনও বৈষম্য রাখা যাবে না বলে মনে করেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, নীতিমালার ক্ষেত্রে ডিজিটাল সভরেন্টি (সার্বভৌমত্ব) নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। নীতিমালায় ডিজিটাল সিকউরিটিটি কনফার্ম হয় কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। জবাবদিহিতা বিহীন নীতিমালা হতে পারে না।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নীতিমালা দরকার। বিদেশি কোম্পানিগুলো কতটা জবাবদিহিতার মধ্যে আছে; আমাদের আইআইজি-আইএসপিগুলো দেশিয় কোম্পানি। নীতিমালায় দেখা যাচ্ছে দেশিয় কোম্পানির হাতে যাতে না থাকে, বিদেশি কোম্পানির হাতে চলে যায়- এমন নীতিমালা করা হয়েছে। আমরা দেখছি বন্দরের ক্ষেত্রে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি নিজস্ব ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চাই। এই খাতের ৫-৭ লাখ লোকের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মধ্যে ফেলে নীতিমালা মানা হবে না।
যে লোকটা জানে, তার কাজের জন্য কাউকে জবাবদিহি করতে হবে না-তার চেয়ে বিপদজনক লোক আর কেউ হতে পারে না,” জানিয়ে সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, ‘আমরা এখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিপদজনক পর্যায়ে আছি।’
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. আবদুন নূর তুষার বলেন, যদি ব্যবসায় বৈষম্য দূর করা না যায় তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এসে ব্যবসা করবে। কিন্তু আমাদের দেশিয় ব্যবসায়ীদের ব্যবসার সুযোগ রাখতে হবে। আমাদের ব্যবসায়ীদের স্বাধীন রাখার চেষ্টা করেন।
ফাইবার অ্যাট হোমের চেয়ারম্যান মইনুল হক সিদ্দিকী বলেন, ঢাকার বাইরেও এনটিটিএনরা কাজ করেছে। তার প্রমাণ পাবেন আপনারা সেখানে গেলে। সেখানে ইন্টারনেটের স্পিড দেখে বুঝতে পারবেন। অথচ টেলিকম নীতিমালায় আমাদের দেশিয় উদ্যোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত আমাদের আইএসপিরা সেবা দেয়। এই খাতে আড়াই হাজার ব্যবসায়ী, আমাদের সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। টেলিকম নীতিমালার বিরুদ্ধে প্রধান রাজনৈতিক দল সংবাদ সম্মেলন করেছিল- আমরা আশাবাদী যে সরকার নীতিমালা বাতিল করবে। কিন্তু করা হয়নি। আপনারা (বিএনপি) আগামীতে সরকার গঠন করবেন, মানুষ মেরে ফেলার পলিসির বিষয়ে আপনারা ভাববেন বলে আমরা আশা করি।
ফাইবার অ্যাট হোমের সুমন আহমেদ সাবির মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়াও বক্তব্য দেন এআইওবি সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান, বাহন লিমিটেডের রাশেদ আমিন বিদ্যুৎ,শাহেদ আলম, টেলিযোগাযোগ পলিসি বিশ্লেষক আবু নাজম তানভীর হোসাইন বক্তব্য দেন। এছাড়াও, টিআরএনবি সভাপতি সমীর কুমার দে ও সাধারণ সম্পাদক মাসদুজ্জামান রবিন, সাবেক সভাপতি রাশেদ মেহেদী বক্তব্য দেন।
