বাংলাদেশ ব্যাংক সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড কেনাবেচাসহ গ্রাহকমুখী পাঁচ ধরনের সেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে এসব সেবা বন্ধ হবে। পরে ধাপে ধাপে ঢাকার বাইরে বিভাগীয় অফিসগুলোতেও এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
বন্ধ হতে যাওয়া সেবাগুলো হলো- ১. সঞ্চয়পত্র কেনাবেচা, ২. প্রাইজবন্ড বিক্রি, ৩. ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল, ৪. সরকারি ট্রেজারি চালান জমা, ৫. চালান সংক্রান্ত ভাংতি টাকা সেবা।
তবে গ্রাহকরা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শাখায় এসব সব সেবা আগের মতোই পাবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ সেবাগুলো যেন নির্বিঘ্নে দেওয়া হয়, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে তদারকি বাড়ানো হবে। গ্রাহকদের সচেতন করতে খুব শিগগিরই প্রচারণা চালানো হবে। এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গত ২২ জুন মতিঝিল কার্যালয়ের ক্যাশ বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং আধুনিকায়নের নির্দেশনা দেন। পরে কমিটি গঠন করা হলে তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমানে মতিঝিল কার্যালয়ের ২৮টি কাউন্টারে মোট ১০ ধরনের সেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচটি সেবা বন্ধ করে ১২টি কাউন্টার কার্যক্রম থেকে বাদ যাবে। ডিসেম্বর থেকে মতিঝিল অফিসে নগদ সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড কেনাবেচাও বন্ধ হয়ে যাবে। ট্রেজারি চালান গ্রহণ, ভাংতি টাকা দেওয়া ও নোট বদল সেবাও বন্ধ হবে।
তবে ধাতব মুদ্রা বিনিময়, স্মারক মুদ্রা বিক্রি, অপ্রচলিত নোট সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিসহ ১৬টি কাউন্টারের সেবা স্বাভাবিক থাকবে। এগুলোও ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে অন্য বিভাগে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বাণিজ্যিক ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর ও পোস্ট অফিস থেকে সঞ্চয়পত্র পাওয়া যায়। সব ব্যাংক শাখায় প্রাইজবন্ড পাওয়ার সুবিধাও রয়েছে। তবুও গ্রাহকের আস্থার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকেই বেশি ভিড় হয়—বিশেষ করে মতিঝিল অফিসে, যেখানে সঞ্চয়পত্রের মোট জমার ৩০ শতাংশের বেশি রয়েছে।
সাম্প্রতিক সার্ভার জালিয়াতির ঘটনায় মতিঝিল কার্যালয়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আত্মসাত এবং আরও ৫০ লাখ টাকার চেষ্টা ধরা পড়ে; এ ঘটনায় মামলা ও তদন্ত চলছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জালিয়াতির ঘটনা এই সিদ্ধান্তের কারণ নয়। কেপিআই নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণই মূল উদ্দেশ্য।

