বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে নদীবন্দর প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রজ্ঞাপন জারির জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পক্ষ থেকে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডোর আরিফ আহম্মেদ মোস্তফা স্বাক্ষরিত ওই পত্রে জানানো হয়—সারিয়াকান্দি উপজেলায় নদীবন্দর প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির প্রতিবেদনে এখানে নদীবন্দর প্রতিষ্ঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা সারিয়াকান্দিতে নদীবন্দর স্থাপনের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবের পর বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান সরেজমিনে কালিতলা ও মাদারগঞ্জ জামথল নৌঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়।

নদীবন্দর ঘোষণার জন্য প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া এখন আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এলাকাবাসী এ খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এবং মনে করছেন, নতুন নদীবন্দর চালু হলে যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সারিয়াকান্দিতে নদীবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল জগলুল আহসান বলেন, বগুড়া সারিয়াকান্দি তথা পুরো জেলা বাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির লক্ষ্যে পত্রও প্রদান করা হয়েছে। এ মহৎ উদ্যোগের জন্য তিনি বগুড়াবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে সারিয়াকান্দিতে নদীবন্দর প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আতিকুর রহমান বলেন, বিশেষজ্ঞ কমিটির সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে সারিয়াকান্দিতে নদীবন্দর স্থাপনকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই সারিয়াকান্দিতে নদীবন্দর প্রতিষ্ঠার বাস্তবায়ন শুরু হবে।

Share.
Exit mobile version