রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে নিহত আবুল কালাম আজাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বরকাঠি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। অপ্রত্যাশিত এই মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই ভেঙে পড়ে তার পরিবার। বাবাকে খুঁজে ফিরছে তার দুই অবুঝ সন্তান-আব্দুল্লাহ ও পারিসা। তারা এখনো বুঝতে পারছে না, বাবা আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠী গ্রামের ছেলে কালাম স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকতেন নারায়ণগঞ্জের পাঠানটুলিতে। ঢাকার একটি বেসরকারি এজেন্সিতে কাজ করতেন তিনি। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন কালাম।
দুর্ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্বজন, প্রতিবেশীসহ অসংখ্য মানুষ অংশ নেন।
স্বামীর মৃত্যুতে দিশেহারা স্ত্রী প্রিয়া। তিনি বলেন, আমার হাজবেন্ড ছাড়া আমাদের পৃথিবীতে আর কেউ নেই। ছোট বাচ্চাগুলোকে নিয়ে সামনে কী করবো বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে দাবি, যেন আর কোনো পরিবার এমন ক্ষতির শিকার না হয়।
ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ
সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা সাহায্যের ঘোষণা এসেছে। তবে এটি পর্যাপ্ত নয় দাবি স্বজনদের। নিহতের চাচাতো ভাই আব্দুল গনি বলেন, এই টাকায় পরিবারের ভবিষ্যৎ চলবে না। কমপক্ষে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।
আরেক স্বজন কাওসার আহমেদ বলেন, কর্তৃপক্ষের অবহেলাতেই এই দুর্ঘটনা। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম খান জানান, আমরা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ম্যাংগোটিভি/আরএইচ
