দেশের পুঁজিবাজার টানা দরপতনের চাপে থাকতেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইস-এর শীর্ষ পদে পরিবর্তনের আলোচনা জোরালো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ-এর দায়িত্বকাল শেষের দিকে এবং যেকোনো সময় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ সংক্রান্ত দীর্ঘদিন আটকে থাকা ফাইল আবার সচল হয়েছে। প্রশাসনিক পর্যায়ে দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই পরিবর্তন আসতে পারে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান কমিশনের সময়ে পুঁজিবাজারে প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা আসেনি। বরং কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট আরও বাড়িয়েছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী এই সময়টিকে হতাশাজনক হিসেবে দেখছেন।

চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়েও শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল বলে বাজারে আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যোগ্যতার চেয়ে প্রভাবের ভিত্তিতে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল হলেও বিএসইসির বর্তমান নেতৃত্ব বহাল থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। বাজারে গুঞ্জন রয়েছে, ভেতরে ভেতরে পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছিল, যা এখন দৃশ্যমান হচ্ছে।

তবে পরিবর্তনে বিলম্ব হওয়ার পেছনে কিছু বাস্তব কারণও রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর অপসারণ ঘিরে সাম্প্রতিক সমালোচনা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার কিছুটা সময় নিয়েছে।

এদিকে বাজারের বাস্তব চিত্র এখনো উদ্বেগজনক। ঈদুল ফিতরের ছুটির পর লেনদেন শুরু হলেও বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। বড় মূলধনী শেয়ারে বিক্রির চাপ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং আস্থার ঘাটতি—সব মিলিয়ে নেতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে নেতৃত্বে পরিবর্তন স্বল্পমেয়াদে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল করতে কার্যকর সংস্কার, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং শক্ত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version