পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতের ৯টি দুর্বল কোম্পানিকে ‘নন-ভিয়েবল’ বা অচল ঘোষণা করার আভাসে পুঁজিবাজারে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। লেনদেনের শুরু থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ে। ফলে আর্থিক খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর সর্বনিম্ন সীমায় (সার্কিট ব্রেকার) নেমে যায়।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে-একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর মতো এখানেও তাদের বিনিয়োগ করা মূলধন শূন্য হয়ে যেতে পারে কি না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ৫ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অচল বা ‘নন-ভিয়েবল’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস (ফাস) ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, বিআইএফসি, প্রিমিয়ার লিজিং, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং প্রাইম ফাইন্যান্স।
গভর্নরের এই ঘোষণার পরপরই বিনিয়োগকারীরা তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির চেষ্টা করলেও বাজারে পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় অনেকেই শেয়ার বিক্রি করতে না পেরে আটকা পড়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, অচল ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পুঞ্জীভূত লোকসান ছাড়িয়েছে ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা এবং খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৯৮ শতাংশ। পিপলস লিজিংয়ের লোকসান ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেশি। এফএএস ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল সুশাসন ও লুটপাটের কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানের মূলধন সম্পূর্ণভাবে ক্ষয় হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এর আগে পাঁচটি শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের সময় শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারের ফেস ভ্যালু শূন্য করে দেওয়া হয়। ফলে এনবিএফআই খাতের বিনিয়োগকারীরাও একই পরিণতির আশঙ্কা করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পবিত্র রমজানের মধ্যে সাধারণ আমানতকারীদের মূল টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর আওতায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে রয়েছে, সেগুলোকে অবসায়ন বা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা আমানতকারীদের সুরক্ষা দিলেও শেয়ারহোল্ডারদের দায় নিতে না চাওয়ার বিষয়টি পুঁজিবাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের চিড় ধরাতে পারে। এর প্রভাব হিসেবে নির্ধারিত ৯টি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এনবিএফআই খাতের অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারেও বিক্রির চাপ দেখা দিয়েছে। খাতটির ২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আজ ২০টিরই শেয়ারদর কমেছে।

