বিশ্বকাপে নিজেদের আধিপত্যের আরেকটি প্রমাণ রাখল ব্রাজিল। টানা ১৪তমবারের মতো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একই সঙ্গে ১৯৭০ সালের পর টানা ১৭তম বিশ্বকাপে শেষ ষোলো বা নকআউট পর্বে ওঠার কীর্তিও গড়েছে সেলেসাওরা।
মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করে এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল ব্রাজিল। তবে পরের দুই ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয় কার্লো অ্যানচেলত্তির দল। তাতেই গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে শেষ ৩২-এর টিকিট কেটে নেয় তারা।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের এই ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক ফুটবলে এক অনন্য নজির। দীর্ঘ ৪৮ বছর আগে, ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে সর্বশেষবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি ব্রাজিল। সেবার অস্ট্রিয়ার পেছনে থেকে রানার্সআপ হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠতে হয়েছিল তাদের। এরপর ১৯৮২ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এই আসর পর্যন্ত প্রতিবারই গ্রুপের শীর্ষস্থান নিজেদের দখলে রেখেছে সেলেসাওরা।
এবারের আসরেও গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ছিল আত্মবিশ্বাসী ও নিয়ন্ত্রিত। মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েসের দারুণ নিয়ন্ত্রণ, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোল, মাতেউস কুনিয়ার ফর্ম এবং দলে নেইমারের ফিরে আসা—সব মিলিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ এক ব্রাজিলকেই দেখা যাচ্ছে এবারের বিশ্বকাপে।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে ওঠা ব্রাজিল এখন হেক্সা মিশনের পরবর্তী ধাপে আরও শক্তভাবে এগিয়ে যেতে চাইবে। ইতিহাস, পরিসংখ্যান আর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপেও শিরোপার অন্যতম দাবিদার সেলেসাওরাই।

