জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা চায় বিএনপি। কিন্তু সেই নির্বাচন বানচালে একটি মহল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের দিন দুই ব্যালটে ভোট হবে—একটি গণভোটের, আরেকটি সংসদ নির্বাচনের।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তাদের প্রতিও আহ্বান-জনগণের দাবি একটি অবাধ নির্বাচন, সেটিতে যেন কেউ বাধা না দেয়।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও তাদের গঠিত সংস্কার কমিশনই আজকের সংকটের জন্য দায়ী। দীর্ঘ আলোচনার পরও আমাদের দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট (অসন্তোষের নোট) চূড়ান্ত সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশনের ওপর যে আস্থা রাখা হয়েছিল, তা ভঙ্গ করা হয়েছে এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
বিএনপি সংস্কারের দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির জন্মই হয়েছে সংস্কারের মধ্য দিয়ে। একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তিনি আরও যোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়া প্রেসিডেন্সিয়াল থেকে পার্লামেন্টারি ব্যবস্থায় ফিরেছিলেন এবং কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। সেই ব্যবস্থায় চারটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন কথা জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা মাত্র। বিএনপি ১০ দফা, ২৭ দফা ও ৩১ দফা দিয়ে সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছে।
