অন্তর্বর্তী সরকার চীনের তৈরি জে-১০ সিই (J-10CE) মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমানের ২০টি ইউনিট কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুই অর্থবছর—২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭—ব্যাপী মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৫ হাজার কোটিরও বেশি। সরকারি একাধিক মহল ও সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে নির্বাচনের মাত্র কিছু মাস বাকি অবস্থায় চতুর্থ্ত্ব সময় নেওয়ার যৌক্তিকতা ও সার্বভৌম স্বার্থ-সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সরকারের স্থানীয় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন—বিমান কেনার উদ্দেশ্য হচ্ছে বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা। কেনা হবে সরাসরি ক্রয় কিংবা G2G (government-to-government) প্রক্রিয়ায়—চীনের সঙ্গে সরাসরি চুক্তির কথা বলাও হয়েছে, তবে চূড়ান্ত কিনা তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।
সমালোচকরা বলছেন—নির্বাচনের কয়েক মাস বাকি অবস্থায় প্রতিরক্ষা খাতে এত বড় ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া সন্দেহসাপেক্ষ; সামরিক বিশেষজ্ঞদেরও মধ্যে এতে কেন তত দ্রুত অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে সামরিক সূত্র বলছে, প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষার স্বার্থে বিমান কেনা প্রয়োজন।
মাল্টি-রোল সক্ষমতা: ডিফেনসিভ ও অফেনসিভ—দুই ধরণের ভূমিকাই বহন করতে পারে। শর্ট-টেকঅফ সক্ষমতা: সীমিত রানওয়ে অংশ থেকেও দ্রুত টেক-অফ করতে পারে; তাই আক্রমণ কিংবা রানওয়ে আঘাতের পরেও রিঅ্যাকশন দ্রুত করা যায়। সিঙ্গেল ইঞ্জিন ফাইটার: উচ্চমানের ম্যানুভারিং, ‘টপ ফাইট’ বা ওভারহেড ম্যানুভারের জন্য উপযোগী। গতি: সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ২,৪১৫ কিমি (শব্দগতি’র প্রায় দ্বিগুণ)। অ্যাভিয়নিক্স ও রাডার: আধুনিক রাডার এবং অ্যারোডায়নামিক্স, র্যাডারের দিক থেকে জে-১০সি/সিই শক্তিশালী বলে বিভিন্ন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ধারণা করে। কোন পরিবেশে মোতাবেক: বিমাননৌ, স্থলভিত্তিক ঘাঁটি—দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহার উপযোগী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জে-১০ সিরিজের উন্নত সংস্করণ জে-১০সি/সিই মোটের উপর রাফাল ইত্যাদির সাথে তুলনীয় চতুর্থ-দশমিক-এক প্রজন্মের যুদ্ধবিমান; পাঠিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে র্যাডার, ম্যানুভারিং ও টপ ফাইটিং ক্ষমতা এটিকে কার্যকর অপশন বানায়-তবে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তুলনা ও নির্ভরযোগ্যতা-দক্ষতার ওপর বিতর্ক রয়েছে।
সরকার বলছে-এই সিদ্ধান্ত আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার অংশ; বিরোধী ও বিশ্লেষকরা শর্তসাপেক্ষ প্রশ্ন তুলছেন। চূড়ান্ত চুক্তি, ক্রয়পদ্ধতি (নগদ সরাসরি না জিটুজি), সরবরাহ সূচি ও অর্থায়ন কাঠামো সম্পর্কে সরকারি ব্যাখ্যা এখনও হাতে আসেনি।
ম্যাংগোটিভি/আরএইচ

