মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাদের অতিসত্বর গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি জানান নাহিদ ইসলাম।
এর আগে বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পাঁচ মহাপরিচালকসহ বেশ কয়েকজন সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
নাহিদ ইসলাম তার পোস্টে লিখেছেন, সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত সদস্যদের বিচার সেনাবাহিনীকে ‘কলঙ্কমুক্ত’ করবে। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ন্যায়বিচার ও সংস্কারের প্রক্রিয়া সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে-কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার বাইরে নয়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠান দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর প্রভাব সেনাবাহিনীতেও পড়েছিল। র্যাব ও ডিজিএফআইয়ের দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তা গুম, খুন, ক্রসফায়ারসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিরস্ত্র জনগণের ওপর গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এখন আমাদের সামনে ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কলঙ্কমুক্ত করা, পুনর্গঠন করা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের উচিত সরকার ও ট্রাইব্যুনালকে পূর্ণ সহযোগিতা করা। এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ইগো নয়—এটি রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা ৫ আগস্ট থেকে দেশের স্থিতিশীলতা ও ঐক্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি। সংস্কার ও ন্যায়বিচারের পথে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, যদিও সব প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। এখন আমাদের লক্ষ্য দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।’
