গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাজাবাড়ী-দমদমা সড়কের এক কিলোমিটার অংশ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে ধসে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নদীতীরে বসানো ব্লকও ভেঙে যাচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজ, তদারকির অভাব এবং প্রকল্পে অনিয়মের কারণেই সড়কটি এত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীপুর উপজেলা সদর থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২১ সালে নেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ পায় মেসার্স সালাম ট্রেডার্স। ২০২৪ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা হয়।

তবে নির্মাণ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সূতি নদীর চিনাশুকানিয়া এলাকায় সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ ধসে গেছে। বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। নদীতীরে স্থাপিত ব্লক ভেঙে নদীতে বিলীন হওয়ার অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাটি ও বালুভর্তি বস্তা ফেলে সাময়িকভাবে মেরামতের চেষ্টা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় বাসিন্দা মহসিনুল ইসলাম বলেন, মাত্র তিন মাস আগে কাজ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে সড়কের বড় একটি অংশ নদীতে ধসে গেছে। এখন এ পথে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

আরেক বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নদীর তীর বালু ও মাটি দিয়ে ভরাট করার পর যথাযথভাবে রোলিং না করেই সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে অল্প সময়েই সড়কটি দেবে গেছে। তিনি এ জন্য যথাযথ তদারকির অভাবকে দায়ী করেন।

স্থানীয় লুৎফর রহমানের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই এলাকাবাসী অনিয়মের প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন তাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।

দমদমা গ্রামের হুমায়ুন আজাদ বলেন, পাঁচ বছর পর প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই সড়ক ধসে পড়েছে। নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস ছালাম বলেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর সড়কের কিছু অংশ দেবে গেছে। জামানতের অর্থ দুই বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। যতবার ক্ষতি হবে, ততবারই তা মেরামত করা হবে।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. তৌহিদ আহমেদ বলেন, সড়ক ধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বর্তমানে বর্ষাকালের কারণে স্থায়ী মেরামত সম্ভব নয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত হিসেবে প্রায় এক কোটি টাকা সংরক্ষিত রয়েছে। ওই অর্থ থেকেই সড়ক মেরামত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: আরটিভি

ম্যাংগোটিভি / আরএইচ

Share.
Exit mobile version