যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নতুন নথি প্রকাশের পর বিশ্ব রাজনীতি ও করপোরেট অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশিত গোপন ইমেইল ও বার্তাগুলোতে ইলন মাস্ক, বিল গেটস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যা নতুন করে বৈশ্বিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
নথিতে ধনকুবেরদের পাশাপাশি ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের বিরুদ্ধে নতুন যৌন হেনস্তার অভিযোগও উঠে এসেছে। এ ছাড়া সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে। এসব তথ্য প্রকাশের পর স্লোভাকিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন।
মাস্ক ও গেটসকে ঘিরে অভিযোগ
প্রকাশিত নথিতে দাবি করা হয়েছে, মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এবং একপর্যায়ে এপস্টেইনের কাছে মাদক সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে গেটস ফাউন্ডেশন এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, ইলন মাস্ক ২০১২–১৩ সালের দিকে এপস্টেইনের দ্বীপে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘সবচেয়ে বন্য পার্টি’ সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন বলে ইমেইলে উল্লেখ রয়েছে। তবে মাস্ক এসব দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, এগুলো তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা।
নথিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কমার্স সেক্রেটারি হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও উঠে এসেছে। যদিও ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরা বলছেন, প্রকৃত অপরাধীরা এখনও আড়ালেই রয়ে গেছে।
খাসোগি হত্যা ও এমবিজেড প্রসঙ্গ
নথিতে আরও দাবি করা হয়, ২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পর এপস্টেইন এক বার্তায় লিখেছিলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড) সম্ভবত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পরিস্থিতি জটিল করেছিলেন।
এপস্টেইনের মতে, এটি ছিল একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং একটি ভিডিও ফুটেজ হ্যাক করে তথ্য ফাঁস করা হয়েছিল। একই সঙ্গে একটি এফবিআই মেমোতে দাবি করা হয়েছে, এপস্টেইন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতেন এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
মোদিকে নিয়ে দাবি নাকচ ভারতের
এপস্টেইনের ইমেইলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ওঠা দাবিগুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে দণ্ডিত অপরাধীর ‘বাজে চিন্তা’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগগুলো নাকচ করে দেয়।
নথিতে বলা হয়, মোদির ২০১৭ সালের ইসরায়েল সফর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবে হয়েছিল এবং ২০১৯ সালে রিপাবলিকান কৌশলী স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে মোদির সাক্ষাতে এপস্টেইন মধ্যস্থতা করতে চেয়েছিলেন। বিজেপি সরকার এসব অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বললেও বিরোধী দল কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস ব্যাখ্যা দাবি করেছে। নথিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর নামও উঠে এসেছে।
স্লোভাকিয়ায় পদত্যাগ
নথিতে স্লোভাকিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিরোস্লাভ লাজকাকের সঙ্গে এপস্টেইনের বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য প্রকাশ পায়। বিষয়টি প্রকাশের পর তিনি পদত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেও ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ বলে মন্তব্য করেন।
প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ
ভুক্তভোগী নারীর আইনজীবী ব্র্যাড এডওয়ার্ডস জানিয়েছেন, ২০১০ সালে এপস্টেইন এক নারীকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অ্যান্ড্রুর তৎকালীন বাসভবন রয়্যাল লজে ওই ঘটনা ঘটে। এর আগেও ভার্জিনিয়া জুফ্রে নামের এক নারী প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ এনেছিলেন।
প্রসঙ্গত-এপস্টেইন কেলেঙ্কারি বলতে মূলত মার্কিন অর্থকুবের জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে যৌন নিপীড়ন, মানবপাচার ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ধারাবাহিক ঘটনাকে বোঝানো হয়।
ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

