মসজিদের ইমাম ও খতিবদের সমাজের নেতৃত্ব গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইমাম ও খতিবরা কারও করুণার পাত্র হবেন—এটা আমরা চাই না। তাদের প্রকৃত মর্যাদা সমাজে ফিরিয়ে দিতে হবে।’

রাসূলে কারীম (সা.) মহান রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পেয়েই মসজিদ গড়েছিলেন এবং মসজিদকে আল্লাহ তাআালার পছন্দ অনুযায়ী মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তখন আলাদা কোনো ক্যাবিনেট হাউজ ছিল না এবং আলাদা কোনো রাষ্ট্রপতি অথবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছিল না। সমস্ত আঞ্জাম দেওয়া হতো মসজিদে নববী থেকে। বিভিন্ন ধর্মের, মতের মানুষ, সারা বিশ্ব থেকে প্রতিনিধি নিয়ে তার কাছে এসেছেন। তিনি তাদের সবার সঙ্গে মিলিত হয়েছেন মসজিদে নববীতে।

রোববার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মিলিত ইমাম–খতিব জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র ইমাম মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকি আন–নদভীর সভাপতিত্বে দুপুর ২টায় সম্মেলন শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ইমাম–খতিবদের সামাজিক নিরাপত্তা, সম্মানজনক ভাতা, মসজিদ পরিচালনার আধুনিক নীতিমালা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একটি রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হয়।

দেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ। এ দেশে আইন চলবে কোরআনের মতবাদেই। সেই কাঠামোয় সব ধর্মের মানুষের পূর্ণ অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে।

ইমাম–খতিবদের সাত দফা দাবির অন্যতম-মসজিদ কমিটিকে ইমাম-খতিবদের সম্মানের ভিত্তিতে গঠন-নিয়ে তিনি মতভেদ প্রকাশ করেন। বলেন, মসজিদ কমিটি হবে ইমাম–খতিবের পরামর্শে। তারা হবেন কমিটির প্রাণপুরুষ।

সমাজ বিনির্মাণে ইমামদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের দাবিগুলো ছোট। শুধু মসজিদের সীমানায় থাকলে হবে না। সমাজ পরিচালনার দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে। যেদিন নামাজের ইমাম সমাজের ইমাম হবেন-সেদিনই আমরা প্রকৃত মুক্তি দেখতে পাব।

Share.
Exit mobile version