ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তাদের বাহিনী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে। তবে এসব দাবির পক্ষে এখনো কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা আইআরজিসির কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সেন্টকম বলেছে, ইরানি শাসনের পক্ষ থেকে আসা সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

এর আগে সোমবার সেন্টকম দাবি করে, ইরানে এক হাজার ২৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে এবং ১১টি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।

মার্কিন বাহিনীর তথ্যমতে, ইরানের পাল্টা হামলায় কুয়েতে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে কুয়েত ভুলবশত তিনটি মার্কিন এফ–১৫ই যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে বলে জানানো হয়। বিমানের ছয়জন ক্রু নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, বুশেহর প্রদেশের জাম ও দির শহরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আইআরজিসির বিমান ও নৌবাহিনীর অন্তত পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন।

এদিকে তেহরানে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র অ্যাভিচায় আদ্রায়ী বলেন, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। রাডার ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পরিচালনাকারী ইরানি সেনাদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংঘাতের আরেক ফ্রন্টে লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর অবস্থান। সোমবার বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫২ জন নিহত ও ১৫৪ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার দাবি করেছে।

চলমান সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি স্কুল, হাসপাতালসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে এবং সব পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ১৬৫ জন স্কুলছাত্রী ও কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশজুড়ে অন্তত নয়টি হাসপাতাল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ম্যাংগোটিভি /আরএইচ

Share.
Exit mobile version